top of page

কমরেডের ভীষণ জ্বর

সুমন সাধু

 

দীর্ঘদিন লেখা না আসা বিকেলের মতো থেমে যাচ্ছে মাঝরাতের আলো। যে ইশারায় বাঁচে চোখ, তার ভাষা আগুন রঙের। ভাসা ভাসা কাব্যি জমে। তর্কে মশগুল যুবক-যুবতীরা রান্নাঘরে পৌঁছানোর আগেই চুমু খেতে আসে। আর প্রেশার কুকারের সিটি খেলে যায় অকস্মাৎ। এ যাতায়াত সহসা। এদিকে সোমত্ত রাতের চিৎকারে মেতে উঠি আমি, ছায়া নামক একটা ক্ষীণকায় শরীর।

 

 

এই যুদ্ধের কোনো অস্ত্র নেই৷ নিয়মমাফিক অথচ প্রথাবিরুদ্ধ একটা খেলা। যুদ্ধের বিরতিতে স্ট্র‍্যাটেজিস্ট হিসাব কষেন। প্রিয়ের সঙ্গে খানিক পোশাক বিনিময়। আহতদের চিহ্নিত করে ডাক পাঠাতে হবে মিয়াঁসাহেবকে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি ধরবেন রাগ ভীমপলশ্রী। সেই সুরে প্রত্যেকে একা, অসহায়, নিঃস্ব। নিঃশব্দে কত কথা রয়ে যায়। অথচ অস্ত্র থেকে রক্ত ঝরে না বহুদিন।

 

 

তোমার ইতিহাস বড়োই দুর্বল। যেন, তেন আর প্রকারেণকে আলাদা করে ভেবে নাও স্বপ্নে দেখা ভ্যাটিকান সিটির স্থাপত্য। মুখস্থ করো রোম সাম্রাজ্যের পতন। অথচ ইতিহাস তোমায় টানে না৷ যেভাবে আমাকে টানেনি কোনোদিন। কদাচিৎ সেই স্বপ্নে আসে রোম শহর৷ বাসিলিকা ক্যাথেড্রায় বসে আমরা স্মরণ করছি নিজেদের অস্তিত্ব। পায়রার মুখে তখন লাল সংকেত। ত্রাজিমিন হ্রদের যুদ্ধে রোমানদের পরাজিত করা এক নাবিক চলেছেন মহাসমারোহে। আমি তখন তোমার পাহারায় ত্রেভি ফোয়ারার সামনে কুলকুচি করছি। তোমার ইতিহাস এত যুদ্ধ শেখায় কেন কমরেড?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

লেখা

দীপ শেখর চক্রবর্তী

 

 

সেটুকুই লেখা

যেটুকু মোমের আলোয় পড়া যায়

আর মোম গলে

কাগজের ওপর পড়লে

জ্বলে যায় পাঠকের নিজস্ব চামড়াটি

 

ওটুকুই লেখা

 

বাকিটা- ভরা বাজারে

কাঁচের শোকেসসমূহ

চড়া আলো

ভেতরে ধরহীন কাটা মুণ্ডুগুলো

নড়াচড়া করে, ভৌতিক হাসে।

 

 

ইবলিস  

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

 

ভবভূতি ও ভাসের সময়ে বাজতো এরকম

একতারা; প্রাচীন কুয়াশার জালকে তারামণ্ডলে

সমোচ্চারিত ছিল তার নাম   

 

যেখানে জাত্যাভিমানের গোসলখানা তার

পাশেই ছিল অনন্ত উদাসীন নরক; কিন্তু নরম।  

মস্ত অথচ ধ্বস্ত। অনেকে গিয়েছে। এসেছে ফেরৎ।

রক্ত হেসেছে অনুচ্চার অন্ধকারে

ব্রহ্মডাঙার আশেপাশে নুব্জ হয়ে হেঁটে গেছে ইবলিস

তারও যে গান আছে কৌমার্য আছে এইকথা বড়ো দেরি

করে জেনেছি। ধরো, এতোটাই দেরি যখন

শয়তানের সঙ্গীত মুদ্রাগোণায় প্রচলিত, যোগমায়া

নিজ গুণে চলে গেছেন সকলের ভাগে ভাগে

মাথায় ঝরে পড়ছে প্রস্তর যুগের ধূমকেতুদের

হৈহল্লার ছাই

 

পৃথিবীপন্থী নক্ষত্রদের মিটিঙে দু-চোখ অন্ধ করে

ইবলিস তারঁ গান সমাপন করেছেন...  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বয়ঃসন্ধি

সূর্যাভ বিশ্বাস

 

লোকাল ট্রেনের মধ্যে বসে আমি অনেক পুরোনো একটা লৌকিক স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি।ভিড়ের মধ্যেও আশ্চর্য একটা শূন্যতা পাক খেতে থাকে নোটোন পায়রার মতো।ভেন্ডার কামরার ভেতর থেকে মাছের গন্ধ আর রুমালের গায়ে শুকিয়ে আসা ঘামের খড়িদাগ জুড়ে হাওয়া উঠলে দেখি পাশাপাশি সরে যাওয়া গাছপালাগুলো আমাদের ছিন্ন সম্পর্কের মতো সরে সরে যাচ্ছে।নোনাপথ বেঁকে ঢুকে পড়ছে লেখার ভেতর।দুপাশে কাকতাড়ুয়ার ছায়ায় উড়ে আসছে কাক।আলপথ একটু একটু করে হয়ে উঠছে আবাদি জমির মেরুদন্ড।আমরা পায়ে হাঁটা পথের কৌশল রপ্ত করতে করতে চলে যাচ্ছি রথের মেলার দিকে।বাবা বলছেন ফসলের জন্মবৃত্তান্তের কথা।আমরা লাঙলের ফালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই গর্ভবতী মাটির গন্ধ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে মিহি কুয়াশার ভেতর।বাবা ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন জমির মেরুদন্ডের ওপর দিয়ে।আমরা বড় হয়ে উঠছি একটু একটু করে আর লাঙলের পৌরুষ খুব ভেতর থেকে সন্তর্পণে নষ্ট করে দিচ্ছে আমাদের কৈশোর ও ক্লান্তি যাবতীয় গ্লানি ও কৌতূহল...

 

স  ম্পা  দ  ক  ম  ণ্ড  লী

তৃণা চক্রবর্তী

সুরজিৎ পোদ্দার

সুন্দরম দাস

bottom of page